Subject Review -CSE
.
.
আমাদের দেশের যে পরিস্থিতি তাতে বেশির ভাগ ছেলেমেয়েই আন্ডারগ্র্যাজুয়েট করার পরই ভালো চাকরির প্রত্যাশা করেন। সাথে সাথে অভিভাবকরাও প্রত্যাশা করে যে তার সন্তান একটা ভালো বেতনের চাকরি করবে। আমার মতে ভালো বেতনের চাকরি বাংলাদেশে হয়তো প্রাসঙ্গিক, তবে আপনি যে কম্পিউটার সায়েন্সে পরবেন তার একমাত্র কারণ যেন শুধুমাত্র ভালো বেতনের আশা করা না হয়। যদি এমনি ভেবে থাকেন তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আপনাকে পস্তাতে হতে পারে। আমার মতে, কম্পিউটার সায়েন্স বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া খুবই চিত্তাকর্ষক ও আনন্দময়। আর ভালোমতো লেখাপড়া করলে আপনার চাকরি খুঁজতে হবে না, চাকরিই বরং আপনাকে খুঁজবে। যা হোক, চলুন দেখে নেয়া যাক কম্পিউটার সায়েন্সে আপনি পড়ে কী পেতে পারেন।
বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির, তাই নিজেকে অন্যের কাছে তুলে ধরা বা যেকোনো নতুন সুযোগকে কাজে লাগাতে তথ্যপ্রযুক্তির ছেলেমেয়েরাই এগিয়ে থাকে। নিজেকে তুলে ধরতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারেও তারা অনেক বেশি পারদর্শী হয়। যেকোনো ক্ষেত্রে আপনি আপনার কম্পিউটিং দক্ষতা ব্যবহার করতে পারেন। আপনি আপনি যদি কম্পিউটার বিজ্ঞানে অধ্যয়নরত থাকেন তবে এটি সেক্টরের পাশাপাশি আরও ভিন্ন কিছু সেক্টরে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। যেমন, ব্যাংক, করপোরেট হাউজ, মিডিয়াসহ সব জায়গাই আজ কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক চাহিদা।
বর্তমানে সময়ে প্রায় প্রতিটি কোম্পানিতে যেমন একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট লাগে তেমনি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে চালাতে গেলে একজন কম্পিউটারে দক্ষ এমন একজন ব্যক্তি প্রয়োজন পড়ে। কম্পিউটার সায়েন্সের ক্যারিয়ার আরও অন্য ভাবেও হতে পারে যেমন আপনি কম্পিউটার সায়েন্স পড়েন তবে প্রোগ্রামিং শিখুন বা নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর শিখুন এই দুটি আপনার জন্য খুব সহজ হয়ে যাবে যখন আপনি প্রেক্টিক্যালি শিখতে যাবেন। আবার যাদের আঁকাআঁকির সেন্স ভালো বা পছন্দ করেন তারা গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে খুবই ভালো করতে পারেন। আমাদের দেশে বর্তমানে এমন অনেক ট্রেনিং ইন্সিটিউট আছে যারা আপনাকে প্রফেশনালি গ্রাফিক ডিজাইনের ওপরে প্রশিক্ষন প্রদান করবে।
সুতরাং আপনি যদি কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেন তবে আপনার সামনে এমন অনেক পথ পাবেন যেখান থেকে খুব সহজে নিজের পছন্দ মতো একটি পথ বেছে নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। আমাদের দেশের বেকার সমস্যা প্রকট। যথাযথ ডিগ্রি ও যোগ্যতা থাকার পরও অনেকেই চাকরি পান না। অনেকেরি চাকরির জন্য অনেক দিন এমনকি বছরের পর বছরও পথে পথে ঘুরতে হয়। সত্যিকার অর্থে সবার জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা বর্তমান বাংলাদেশে সম্ভব নয়। এই যখন বাস্তবতা তখন আপনার সামনে আরও একটি পথ খোলা আছে। আপনি একজন কম্পিউটার গ্র্যাজুয়েট হিসেবে খুব সহজেই অনলাইন ফ্রিল্যান্স মার্কেট প্লেসে নিজেকে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। এজন্য আপনার দরকার হবে একটি নিদিষ্ট কাজের দক্ষতা। আপনি একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। দেখবেন আপনার বন্ধুদের মদ্ধে এমন অনেকেই আছেন যারা ফ্রিল্যান্স মার্কেট প্লেসে কাজ করছে এবং সেখান থেকে মোটামুটি ভালো টাকা আয় করছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি এটি বেশ ভালো একটি পেশা। এবং এখান থেকে মোটামুটি ভালো আয় করতে পারবেন।
অনেকে আবার নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে তুলতে পারেন। যুগ যেহেতু এখন তথ্যপ্রযুক্তির, তাই তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনেক ধরনের নতুন নতুন বিজনেস শুরু করা যেতে পারে। যেমন ধরুন, গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পরপরই কয়েকজন ফ্রেন্ড মিলে একটা সফটওয়্যার ফার্ম গড়ে তুলতে পারেন। চাকরির সুযোগ যদি আমরা বর্তমান ক্যারিয়ার মার্কেট ও এর ট্রেন্ড বিবেচনায় নেই, তবে দেখব অন্তত আগামী আরো ১৫-২০ বছর কম্পিউটার ক্যারিয়ারের রমরমা অবস্থা বিরাজ করবে। এটা যতটা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য প্রযোজ্য ঠিক তেমনি বাংলাদেশের জন্যও প্রযোজ্য। বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ কম্পিউটার সায়েন্সই মনে হয় একমাত্র সাবজেক্ট, যেটাতে পড়ে আপনি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেই সরাসরি গুগল বা ফেসবুকের মতো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করতে পারেন। ইতোমধ্যে অনেক বাংলাদেশী ছাত্র এসব নামকরা প্রতিষ্ঠানে নিজেরদের আসন করে নিয়েছেন।
কম্পিউটার সায়েন্স শেষ বর্ষে কিছু ক্রেডিট থাকে গবেষণা বা প্রজেক্টের জন্য। প্রতি বছরই বাংলাদেশের অনার্সের ছাত্ররা ভালো ভালো জার্নালে পেপার পাবলিশ করে থাকে। কম্পিউটার সায়েন্সের গবেষণার একটা সুবিধা হলো নিজের ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করেই বড় বড় গবেষণা করা যায়, কোটি টাকার যন্ত্রপাতির দরকার হয় না (অবশ্যই দরকার হয়, তবে সেগুলো ছাড়াও অনেক কাজ করা যায়)। কনটেস্ট সারা বছরই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা কোম্পানি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ও সফটওয়্যার কনটেস্ট আয়োজন করে। প্রোগ্রামিং কনটেস্টে মূলত অলিম্পিয়াড স্টাইলে অ্যালগরিদমের সাহায্যে প্রবলেম সলভ করতে হয়। এখানে সুযোগ আছে সারা বিশ্বের বড় বড় প্রোগ্রামারের সাথে
Comments
Post a Comment