পিঁপড়া বা তার থেকে ছোট কোনো প্রাণীকে ফুঁ দিলে ওরা দাঁড়িয়ে যায় এবং দাঁড়ানোর পরে ফুঁ দিলে আর উড়ে যায় না কেন?
ঘটনাটি কিন্তু আসলেই অনেক মজার। অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও পোকামাকড়কে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয়া সহজ কাজ নয়। কিন্তু কেন? এর জন্য পোকামাকড়ের পায়ের গঠন জানা বেশ জরুরী। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক এদের পায়ের গঠনে কি এমন আছে!
বেশি বিস্তারিত না বলে যতোটুকু দরকার আমরা ততটুকুই আলোচনা করতে পারি। ছবি দেখে আশাকরি বেশ কয়েকটি নাম আমরা জেনে গেছি। ফিমারের পরেই রয়েছে টিবিয়া, আর টিবিয়ার পরে টার্সাস। টিবিয়া এবং টার্সাস কিন্তু মসৃণ নয়, কাঁটাযুক্ত। ছবিতে কিন্তু পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। টার্সাস বেশ কয়েক খণ্ডে বিভক্ত, শীর্ষে রয়েছে নখর। উপরের ছবিতে ভালোমতো বোঝা গেলেও আরেকটা আণুবীক্ষণিক ছবি যোগ করছি, আরও ভালো বুঝতে পারবেন।
নখ কিছুটা বাঁকানো, শীর্ষদেশ সূচালো। পোকামাকড় অমসৃণ তলে চলার সময় খুব সহজেই নখ দিয়ে তলকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে। তো স্বভাবতই আমরা যদি বাতাস দিয়ে ওকে উড়িয়ে দিতে চেষ্টা করি, তবে সে নখ দিয়ে তলকে আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরবে।
তাছাড়া নখের পাশেই দেখুন সংলগ্নতা দানকারী প্যাড রয়েছে। এই প্যাড থেকে এক ধরনের আঠালো ধরনের পদার্থের ক্ষরণ হয় যা পোকামাকড়কে মসৃণ তলেও আটকে থাকতে সাহায্য করে। কাঁচের উপর দিয়ে চলাফেরা করার সময় এই প্যাডের ভূমিকা অপরিসীম। উপরের ছবিতে দেখানো প্যাডটি একটি পিঁপড়ার। অনেক পতঙ্গ যেমন ঘাসফড়িং এর উক্ত প্যাডটি আবার ব্রাশের মতো দেখতে।
কোন কোন পতঙ্গের আবার অ্যারোলিয়া নামক বিশেষ গঠন থাকে। আঠালো পদার্থ ক্ষরণের জন্য এটা দিয়েও মসৃণ তলে আটকে থাকতে পারে অনেক পতঙ্গ।
কারও আবার টার্সাসের মাথার দিকে নখরের পাশে থাকে পালভিলি নামক বিশেষ গঠন। প্রতি পাল্ভিলাস দেখতে চোষকের মতো যা দিয়ে খুব সহজেই মসৃণ তলে নিজেকে আটকে রাখতে পারে।
আশা করছি পুরো ঘটনাটি পরিষ্কার হয়ে গেছে।
সারমর্মঃ আমরা যখন কোন পতঙ্গকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করবো তখন সে তার বাঁকানো নখর ব্যবহার করে আঁকড়ে ধরে থাকার চেষ্টা করবে। সাথে বাড়তি সুবিধা এনে দিবে সংলগ্নতা দানকারী প্যাড কিংবা অ্যারোলিয়া কিংবা পালভিলি।
Comments
Post a Comment