Skip to main content

ফজরের পরের আমল ও দোয়া

ফজর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। অন্য চার ওয়াক্তের চেয়ে ফজরের নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত বেশি। ফজরের নামাজের সওয়াব ও ফজিলত নিয়ে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়াও ফজরের পর পড়ার মতো ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল রয়েছে।

কয়েকটি আমল উল্লেখ করা হলো—

আয়াতুল কুরসি পাঠ : আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনও অন্তরায় থাকবে না, (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ২৩৯৫)। ’

আয়াতুল কুরসি (আরবি) :

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

উচ্চারণ : আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কায়্যুম লা তা’খুজুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল্ আরদি, মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজিনহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খলফাহুম, ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়িম্ মিন ইলিমহি ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসিআ কুরসিয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদা, ওয়ালা ইয়াঊদুহু হিফজুহুমা,ওয়াহুওয়াল আলিয়্যুল আজিম, (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৫৫)।

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের দোয়া: আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার নিম্নের দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করবেন, (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮৯)। ’

দোয়াটি হলো (আরবি)

رَضِيتُ باللهِ رَبَّاً، وَبِالْإِسْلَامِ دِيناً، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيَّاً

উচ্চারণ : রাজিতু বিল্লাহি রব্বাওঁ ওয়াবিল ইসলামী দ্বিনাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা।

অর্থ : আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বিন হিসেবে ও মুহাম্মাদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

রোগব্যাধি থেকে রক্ষার দোয়া: রোগব্যাধি থেকে হেফাজতের জন্য নবীজি (সা.) নিম্নের দোয়াটি পড়তেন

আরবি :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ

দোয়া : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুজামি, ওয়া মিন সাইয়্যিল আসকাম। ’ অর্থ—হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শ্বেত, উন্মাদনা, কুষ্ঠ এবং সব দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে, (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৫৪)।

সুরা ইয়াসিন পড়া: হাদিসে সুরা ইয়াসিন পড়ার অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে। প্রতিদিন সকালে সুরা ইয়াসিন পড়তে পারি আমরা।

জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া: হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর সাতবার নিম্নের দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয় তাহলে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭৯)

দোয়াটি (আরবি) হলো-

اللهم أجرني من النار

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্ নার।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।

হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর সাতবার নিম্নের দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয় তাহলে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭৯)

দোয়াটি (আরবি) হলো-

اللهم أجرني من النار
 
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্ নার।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।


Comments

আরও দেখুন

লোহার জাহাজ ভাসে কেন ?

লোহার জাহাজ ভাসে কেন ? যদি বস্তুর ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল পদার্থের ওজনের চেয়ে বেশী হলে বস্তুটি তরলে ডুবে  যাবে এবং বস্তুর ওজনের চেয়ে বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল পদার্থের ওজন বেশী হলে বস্তুটি তরলে ভেসে থাকবে। তাহলে লোহার টুকরা পানিতে ভাসবে না কেননা লোহার টুকরা দ্বারা অপসারিত পানির ওজন লোহার টুকরার চেয়ে অনেক কম। লোহার জাহাজের ভিতরটা ফাঁপা বলে জাহাজ যে আয়তনের পানি অপসারণ করে তার ওজন জাহাজের ওজনের চেয়ে বেশী। তাই লোহার জাহাজ পানিতে ভাসে।     

মস্তিষ্কে শক্তি বৃদ্ধি করার সবচেয়ে ভালো উপায় কী?

  প্রশ্নটিই করার কারণে আপনাকে ধন্যবাদ। সাইকোলজিতে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার বিভিন্ন কৌশল রয়েছে। তার মধ্যে কিছু কৌশল নিয়ে আজকে আলোচনা করলাম। আপনি আপনার জীবনে এগুলো এপ্লাই করে দেখতে পারেন। আমার স্মৃতিশক্তি কমে গেছে, আমি আর আগের মত মনে রাখতে পারিনা, আমি কোন কিছু পড়লে ভুলে যাই, এরকম অভিযোগ অনেকেই করে থাকেন। অনেকেই আবার তাদের বর্তমান স্মৃতিশক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট নয় । স্মৃতিশক্তি আসলে অনেকগুলো বিষয়ের সাথে জড়িত। কোন বিষয় নিয়ে বারবার চিন্তা করলে, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ থাকলে,কোন ট্রমার মধ্যে দিয়ে গেলে, মস্তিষ্কে আঘাত পেলে, একসাথে অনেক তথ্য মুখস্থ করার চেষ্টা করলে, কোন মানসিক সমস্যা থাকলে ব্যক্তি স্মৃতি থেকে তথ্য পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হতে পারেন। দৈহিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে আমরা নতুন বিষয় মুখস্থ করতে ব্যর্থ হই এবং কোন কোন ক্ষেত্রে মুখস্থ করা বিষয়ও ভুলে যাই । তাছাড়া বার্ধক্য জনিত কারণে মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপ পেতে পারে। আমাদের মস্তিষ্কের প্রতিটি স্মৃতি কতগুলো নিউরনের সংযোগে তৈরি হয়। আমরা যদি আমাদের ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রথম কোন সাধারণ তথ্য পেয়ে থাকি তাহলে তা আমাদের স্মৃতিতে নিউরো...

মেডিকেল নাকি বুয়েট, কোথায় বেশি পড়তে হয়?

  বুয়েটের পড়াশোনা সম্পর্কে আমি অবগত নই। যেহেতু আমি একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট তাই আমি বলছি মেডিকেলে আপনাকে প্রতিদিন পড়তে হবে। পড়তে হবে মানে পড়তেই হবে। পড়ার সিস্টেমটাই এমন করে তৈরি করা হয়েছে যে আপনাকে রেগুলার পড়তে হবে; কোন মাফ নাই। ধরেন আপনি একদিন হয়তো বা ১৬ ঘন্টা পড়লেন বাকি তিন দিন পড়াশুনা করলেন না। মেডিকেলে এই স্টাইলে পড়াশোনা হবে না। মেডিকেলে পড়ার নিয়মটাই হচ্ছে আপনাকে প্রতিদিন বই নিয়ে বসতে হবে। আর চাপ!!!!!!! হে হে হে…. আমি আর কিছু না বলি। শুধু ছোট ভাই হিসেবে আপনাকে একটা পরামর্শ দিতে পারি। যারা মেডিকেলের ফাইনাল প্রফ পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে তাদেরকে একটু জিজ্ঞেস করবেন তাদের ফাইনাল পরীক্ষার আগের রাতগুলো কিভাবে কেটেছে। বিশেষ করে এনাটমি,প্যাথোলোজি, মেডিসিন আর সার্জারি পরীক্ষার আগের রাতগুলো। আশাকরি চাপ কি জিনিস তারা আপনাকে খুব ভালোভাবে একটা ধারণা দিতে পারবে। ভাইবা বোর্ডের কথা না হয় নাই বললাম। আমার মেডিসিন ভাইবা পরীক্ষার আগের রাতের কথা আমি সারা জীবনেও ভুলব না। পরীক্ষার দিন সকালে দুই বন্ধু মিলে যখন পরীক্ষার হলে যাচ্ছিলাম তখন আমরা দুজনই নিশ্চিত ছিলাম যে আমরা ফেল করব। আলহামদুলিল্...

প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি স্বাস্থ্যর জন্য ভালো?

  প্রতিদিন একটা সিদ্ধ ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। ডিমের কুসুম। অপেক্ষাকৃত হলুদ অংশ। ডিমের সাদা অংশে অ্যালবুমিন থাকে কিন্তু এটা অতটা উপকারী নয়। কুসুমে অনেক উপকার আছে। সমগ্র ডিমের ৩৪% অংশ হল কুসুম। ডিমের বেশির ভাগ স্নেহ পদার্থ হল কুসুমে। কিছুটা প্রোটিনও আছে। একটি বড় ডিমের কুসুমে মোটামুটি ৫০ ক্যালোরি থাকে। ডিমের সাদা অংশ ছাড়া ডিমের কুসুমে ভিটামিন B6, B12, ফলিক অ্যাসিড, pantothenic acid এবং থিয়ামিন (thiamin) একটি সম্পূর্ণ ডিমে ভিটামিন A, D, E এবং K কুসুমেই থাকে।

মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

 রাতের নিস্তব্ধতা মুমিন নারীর জন্য এক বিশেষ উপহার। যখন দুনিয়ার সব কোলাহল থেমে যায়, তখন মহান আল্লাহর সাথে একান্তে কথা বলার, নিজের দুঃখ-কষ্ট পেশ করার এবং হৃদয়ের গভীর থেকে দোয়া করার এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। আর এই সুযোগের সবচেয়ে সুন্দর রূপ হলো ‘সালাতুত তাহাজ্জুদ’। অনেক বোনেরাই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে আগ্রহী হন, কিন্তু এর নিয়ম বা মহিলাদের জন্য বিশেষ কোনো বিধান আছে কিনা, তা নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন। এই পূর্ণাঙ্গ গাইডটি বিশেষভাবে আমাদের মা ও বোনদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সব প্রশ্নের সহজ সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পুরুষ ও মহিলাদের তাহাজ্জুদ কি ভিন্ন? প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন—তাহাজ্জুদ নামাজের মূল নিয়ম, রাকাত সংখ্যা বা পঠিতব্য দোয়ার ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই । পার্থক্য শুধু পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে। যেমন: জামাত: পুরুষদের জন্য মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের فضیلت থাকলেও, মহিলাদের জন্য নিজ ঘরে ইবাদত করাই উত্তম। তাহাজ্জুদ যেহেতু একটি নফল ইবাদত, তাই এটি নারীরা ঘরে একাকী আদায় করবেন, এর জন্য জামাতের কোনো প্রয়োজন নেই। সুবিধা: ঘরে পড়ার কারণ...