এফিলিয়েট মার্কেটিং কি
বর্তমানে এই অনলাইনে যুগে মানুষ অনলাইনে আয় করছে। আপনি যদি অনলাইনে আয় করতে চান তাহলে অনলাইনে বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। তবে বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে এফিলিয়েট মার্কেটিং খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং সকলে কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। আপনি কি অনলাইনে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান? বা এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান নিতে চান? তাহলে আপনি ঠিক জায়গায় এসেছেন।
আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সবার আগে আপনাকে জানতে হবে এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এফিলিয়েট মার্কেটিং একটি খুবই জনপ্রিয় অনলাইন ভিত্তিক কাজ।
কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রি করার জন্য বিক্রেতাকে যে কমিশন প্রদান করা হয় তাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। আর কমিশন পণ্যের মূল্য ওপর শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত ৫% – ৭০% পর্যন্ত কোম্পানির কমিশন দিয়ে থাকে। এখন আমরা একটি উদাহরণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে বুঝিয়ে নেই।
ধরুন আপনি Amazon.com এফিলিয়েট মার্কেটিং এর একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করলেন। সেখানে আপনি অ্যামাজন থেকে একটি টেলিভিশন বিক্রয়ের জন্য আপনি মার্কেটিং করতে চাইছেন। ধরা যাক টেলিভিশনের মূল্য ৩০০০০ টাকা। অ্যামাজন আপনাকে এই মূল্যের উপর ৫% হারে কমিশন দিবে সুতরাং ৩০০০০*৫% = ১৫০০ টাকা। আপনার এই ১৫০০ টাকা হবে আপনার আয়। মূলত এটি হল এফিলিয়েট মার্কেটিং।
এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবো
এফিলিয়েট মার্কেটিং কি জানার পরে আপনার মনে অবশ্যই প্রশ্ন জাগছে এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব? এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা অনেক সহজ যদি আপনি সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। আপনাকে অবশ্যই মার্কেটিং সম্পর্কে ভালো ধারণা নিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের কাজ শুরু করতে হবে। নতুবা আপনার এফিলিয়েট মার্কেটিং দুনিয়াতে টিকে থাকা বড় কঠিন হয়ে পড়বে।
এফিলিয়েট মার্কেটিং কাজ করার প্রথম ধাপ হচ্ছে এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এ সাইন আপ করা। এরপর আপনি যে পন্য বা সেবা গুলো বিক্রয় করতে পারবেন অথবা আপনি যে পন্য বা সেবা সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে সে সকল পন্য বা সেবা নির্বাচন করবেন।
পণ্যগুলো নির্বাচন করার পর আপনার টার্গেট ট্রাফিক সাইটে পণ্যগুলো বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মার্কেটিং করতে হবে। টার্গেট ট্রাফিক সাইট হচ্ছে আপনি যে পন্যটি বিক্রি করবেন সে পণ্যটি কারা কিনবে, কোন বয়সের মানুষের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে এবং কাদেরের এ পণ্যটি বেশি প্রয়োজন হয় বিবেচনা করে আপনার ট্রাফিক অনুসারে পণ্য উপর মার্কেটিং করতে হবে।
এক্ষেত্রে আপনি ব্যানার তৈরি করে মানুষের কাছে এই পণ্যটি ব্যাপারে জানাতে পারেন অথবা আপনার ফেসবুক, টুইটার এর মাধ্যমে পোস্টকরার মাধ্যমে পণ্য সম্পর্কে ডিটেলস জানাতে পারবেন।
শুধুমাত্র এফিলিয়েট মার্কেটিং যারা করে তারা পণ্যের কোডটি কপি করে ট্রাফিক সাইটগুলোতে পণ্যের ডিটেলস দিয়ে মার্কেটিং করে। দর্শকরা অথবা ক্রেতারা ওয়েবসাইটগুলি থেকে পন্য সম্পর্কে জেনে আপনার মাধ্যমে পন্যটি ক্রয় করে থাকবে এবং যে সাইট থেকে পন্য নিবেন সে সাইট থেকে পণ্য বিক্রয়ের জন্য কমিশন পেয়ে যাবেন। এভাবেই আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন।
এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রাম সাইট
এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে চাইলে আপনাকে প্রোগ্রাম সাইট সম্পর্কে জানতে হবে । আর এটি করার জন্য বহু সাইট রয়েছে। তবে বেশ কিছু জনপ্রিয় এফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রাম সাইট রয়েছে। এই সাইট গুলো সেক্টর অনুসাথে হয়ে থাকে। যেমনঃ ওয়েব হস্তিং সাইটে ই-কমার্স জাতীয় সেবা থাকবে না।
আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কি
অ্যামাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করার আগে আপনাকে অ্যামাজন সম্পর্কে জানতে হবে। অ্যামাজন একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট। বিশ্বের সবথেকে বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট হিসেবে পরিচিত। অ্যামাজন ওয়েবসাইটে এমন কোন পণ্য নেই যে বিক্রি করা হয় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে পৃথিবীর সকল পণ্য অ্যামাজনে বিক্রি করা হয়।
আর আপনি যখন অ্যামাজন ওয়েব সাইট থেকে আপনার নির্দিষ্ট কোন পণ্য বিক্রি করার উদ্দেশ্যে প্রমোশনাল কোন কাজ করে থাকেন এবং নির্দিষ্ট পণ্যটি বিক্রি করার ফলে কমিশন আসবে। আর এটিই হচ্ছে অ্যামাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং।
আপনাদের আরো পরিষ্কারভাবে বুঝানোর জন্য আমরা অ্যামাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং পাঁচটি ধাপে বিভক্ত করেছি। ধাপগুলো নিচে দেয়া হল।
- প্রথমে অ্যামাজন ওয়েবসাইট থেকে নিস বা আপনার প্রোডাক্ট নির্বাচন করতে হবে।
- দ্বিতীয় ধাপে আপনার অ্যামাজন এফিলিয়েট এ সাইন আপ করতে হবে।
- তৃতীয় ধাপে আপনার প্রডাক্ট প্রমোশন করতে হবে। আপনি আপনার প্রোডাক্ট প্রমোশন করার জন্য আপনি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন।
- চতুর্থ ধাপে আপনার প্রোডাক্ট অনুসারে নিশ্চিত হয়ে সেল ট্রাক করতে হবে।
- পঞ্চম এবং সর্বশেষ ধাপের আপনার বিক্রিত পণ্যের ওপর যে কমিশন আসবে তা আপনার একাউন্টে যোগ হয়ে যাবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস হচ্ছে দারাজ। দারাজ এর মাধ্যমে এখন বেশিরভাগ বাংলাদেশি কেনাবেচা করে থাকে। দারাজ একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট। আর আপনি এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দারাজে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন। দারাজ এফিলিয়েট মারকেটিং করার জন্য আপনার যা যা করতে হবে তা হচ্ছে।
- প্রথমে আপনাকে একটি দারাজ ওয়েব সাইটে একাউন্ট তৈরি করতে হবে।
- এরপর আপনার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেইজ বা ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে।
- ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। আর সেটি যেকোন ব্যাংক হতে পারে।
- এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে আপনার ধারণা রাখতে হবে।
এফিলিয়েট মার্কেটিং কোর্স
আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং আপনার ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা নিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং ক্যারিয়ার শুরু করতে হবে। আর ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু পড়াশোনা করতে হবে। আর এই এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে জানার জন্য আপনি কোর্স করতে পারে্ন।
তবে এফিলিয়েট মার্কেটিং কোর্স করে ক্যারিয়ারে যাওয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি। কারণ এই সম্পর্ক কোর্স আপনার মার্কেটিং এর অনেক ভাল জানতে পারবেন এবং কাজ করার সময় আপনি কোন সমস্যা পরলে আপনি নিজেই সমাধান করতে পারবে। এফিলিয়েট মার্কেটিং কোর্স করার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মূলত তারা ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্স করায়। আর ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে এফিলিয়েট মার্কেটিং একটি অধ্যায় হিসেবে থাকে। বর্তমানে এটি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সে জন্য সবার মার্কেটিং শেখার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
Comments
Post a Comment