Skip to main content

সুপাড়ি খাওয়ার পুষ্টিগত উপকারীতা কী? এর কোনো অপকারিতা আছে কি?

 সুপারি কী ?

সুপারি এরিকাসিয়া (Arecaceae) পরিবারের এরিকা গণের একটি ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম আরিকা কাটেক্যু (Areca Catechu)। ইংরেজিতে বিটল নাট নামে পরিচিত। একটি সুপারি গাছ নারকেল গাছের মতো লম্বা হয়। সুপারি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। এছাড়াও ভারক, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, পাকিস্তান, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, চিন প্রভৃতি দেশে সুপারি চাষ করা হয়। সুপারি গরম এবং অ্যাসাডিক প্রকৃতির, তাই সীমিত পরিমাণে এটি গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সুপারি খাওয়ার উপকারিতা

১. স্ট্রোক : সুপারি খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বলার সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবহার স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্ল্যাভোনয়েড, অ্যালকালয়েডস, টের্পেনয়েডস, ট্যানিনস, সায়ানোজেনিক, গ্লুকোসাইড, আইসোপ্রেনয়েড, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ইউজেনল জাতীয় বিশেষ উপাদানগুলি লাল সুপারির পাতায় পাওয়া যায়। এই সমস্ত উপাদানগুলি স্ট্রোক (মানসিক এবং কার্ডিওভাসকুলার) ঝুঁকি কমাতে উপকারী হতে পারে ()। এই কারণে অনেকের বিশ্বাস, যে লাল সুপারি পাতার সঙ্গে সুপারি ব্যবহার স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

২. সিজোফ্রেনিয়া : সিজোফ্রেনিয়া (একটি মানসিক ব্যাধি) রোগের ক্ষেত্রেও সুপারি উপকারী প্রমাণিত হতে পারে। আসলে সুপারির মধ্যে বিভিন্ন ধরণের কার্যকরী ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে, যার মধ্যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব উপস্থিত। এই কারণে সুপারি অনেক মানসিক এবং স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা যেমন, অ্যালজাইমার, পার্কিনসনস, অ্যামিওট্রোফিক ল্যাট্রাল স্ক্লোরোসিস, হান্টিংটন এবং সিজোফ্রেনিয়া থেকে মুক্তি পেতে কার্যকরী হতে পারে ()।

৩. দাঁতের ক্যাভিটি থেকে মুক্তি : যদিও অতিরিক্ত সুপারি খাওয়ার কারণে দাঁত এবং মাড়ির ক্ষয় লক্ষ্য করতে পারেন, কিন্তু সীমিত মাত্রায় এর ব্যবহার দাঁতের নানা সমস্যা দূর করতে পারে। যেমন সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা ক্যাভিটি দূর করতে এটি দারুণ কার্যকরী। বিশেষজ্ঞদের মতে এতে অ্যান্থেলিমিন্টিক এফেক্টস (পরজীবী ধ্বংসকারী) রয়েছে, যা ক্যাভিটির সমস্যা দূর করতে উপকারী হতে পারে ()। তবে এবিষয়ে আরও গবেষণা দরকার।

৪. মুখের শুষ্কভাব থেকে মুক্তি : এটি গবেষণায় দেখা গেছে, সুপারি চিবালে মুখে অতিরিক্ত লালা উৎপাদিত হয় ()। সেক্ষেত্রে শুষ্ক মুখের সমস্যা থাকলে সুপারি খেতে পারেন।

৫. ঠোঁটের ফোসকা : ঠোঁটে অনেক সময় ফোসকা মতো হয়ে যায়, চামড়া উঠে যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে লাল সুপারি ব্যবহার করতে পারেন। বলা হয়, লাল সুপারি এমন একটি উদ্ভিদ যার মধ্যে নানা গুরুত্বর সমস্যা সমাধানের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা ঠোঁটে ফোসকা (মুখে আলসারের লক্ষণ) নিরাময়েও সাহায্য করতে পারে। তবে এই বিষয়ে দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

৬. পিঠে ব্যথা : পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে লাল সুপারি ব্যবহার করতে পারেন, উপকার পেতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাল সুপারির গাছ নানা রোগগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়, যেমন জয়েন্টে ব্যথা এবং গাউট (এক ধরণের আর্থ্রাইটিস যা জয়েন্টে ব্যথা এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে) সহ। এছাড়াও সুপারিতে অ্যানালজেসিক (Analgesic) বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা পিঠে ব্যথায় উপকারী ফল দিতে পারে। কোমর ও পিঠে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে এর পাতার রসের পেস্ট তৈরি করে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন অনেকে (

Comments

আরও দেখুন

লোহার জাহাজ ভাসে কেন ?

লোহার জাহাজ ভাসে কেন ? যদি বস্তুর ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল পদার্থের ওজনের চেয়ে বেশী হলে বস্তুটি তরলে ডুবে  যাবে এবং বস্তুর ওজনের চেয়ে বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল পদার্থের ওজন বেশী হলে বস্তুটি তরলে ভেসে থাকবে। তাহলে লোহার টুকরা পানিতে ভাসবে না কেননা লোহার টুকরা দ্বারা অপসারিত পানির ওজন লোহার টুকরার চেয়ে অনেক কম। লোহার জাহাজের ভিতরটা ফাঁপা বলে জাহাজ যে আয়তনের পানি অপসারণ করে তার ওজন জাহাজের ওজনের চেয়ে বেশী। তাই লোহার জাহাজ পানিতে ভাসে।     

জাপান এবং বাংলাদেশের পতাকা দেখতে প্রায় একই রকম কেন?

জাপান ও বাংলাদেশের পতাকা একই ধাঁচের হওয়ার পেছনে সরাসরি কোনো সম্পর্ক না থাকলেও একটা ক্ষীণ যোগসূত্র তো আছেই। বাংলাদেশের পতাকার লাল বৃত্তটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য কে সূচিত করে, যা পাকিস্তানের থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পর বাংলাদেশের ভূমিতে উদিত হয়েছিল। এই লাল রং স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় লক্ষ লক্ষ শহীদ মানুষদের রক্তের প্রতীক হিসেবে ভাবা হয়। সবুজ রঙ বাংলাদেশের স্নিগ্ধ, সুফলা, চিরহরিৎ দেশমাতৃকাকে তুলে ধরে। জাপানের পতাকার লাল বৃত্ত জাপানের সূর্যোদয় কে সূচিত করে। জাপানকে বলা হয় সূর্যোদয়ের দেশ । ভৌগলিক অবস্থানের কারণে জাপান থেকে সর্বপ্রথম সূর্যোদয় দেখা যায়। জাপানিরা সেই কথা মাথায় রেখে নিজেদের পতাকায় লাল বৃত্ত অঙ্কন করে। সুতরাং, উভয় ক্ষেত্রেই লাল বৃত্ত ভোরবেলা (dawn) নির্দেশিত করে। বাংলাদেশের এই ভোর হল স্বাধীনতার নতুন দিন, নতুন ভোর। আর জাপানের ক্ষেত্রে এই ভোর হল নতুন এক সুন্দর দিনের আরম্ভ। বাংলাদেশ হল "বাংলার দেশ" (country of Bengal)। তিনজন বাঙালি, যাঁরা জাপান ও বাংলাদেশ, উভয়ের সঙ্গেই মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন তাঁদের কথা না বললে চলে না। এঁরা হলেন : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (দেশপ...
হযরত শাহ জামাল -এর মাজার - জামালপুর সদর  বিস্তারিত এখানে দেখুন হযরত শাহ কামাল -এর মাজার - দুরমুঠ, মেলান্দহ উপজেলা। বিস্তারিত এখানে দেখুন শেখ হাসিনা সাংস্কৃতিক পল্লী, সদর     বিস্তারিত এখানে দেখুন গারো পাহাড় লাউচাপড়া পাহাড়িকা বিনোদন কেন্দ্র -   বকশীগঞ্জ উপজেলা ; বিস্তারিত এখানে দেখুন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ -ধানুয়া কামালপুর   বকশীগঞ্জ উপজেলা বিস্তারিত এখানে দেখুন ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর-   বকশীগঞ্জ উপজেলা বিস্তারিত এখানে দেখুন বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স মিল লিঃ ও লেদার মিল লিঃ; দয়াময়ী মন্দির - জামালপুর সদর; বিস্তারিত এখানে দেখুন তরফদার খামারবাড়ী-জগন্নাথগঞ্জ ঘাট, সরিষাবাড়ী; বিস্তারিত এখানে দেখুন জিল বাংলা চিনিকল - দেওয়ানগঞ্জ; বিস্তারিত এখানে দেখুন হরিশচন্দ্রের দীঘি - দেউর পাড় চন্দ্রা,জামালপুর বিস্তারিত এখানে দেখুন যমুনা সিটি পার্ক - পোগলদিঘা, সরিষাবাড়ী; বিস্তারিত এখানে দেখুন লুইস ভিলেজ রিসোর্ট অ্যান্ড পার্ক-বেলটিয়া, জামালপুর। বিস্তারিত এখানে দেখুন যমুনা জেটি ঘাট -জগন্নাথগঞ্জ ঘাট, সরিষাবাড়ী; বিস্তারিত এখানে দেখুন গুঠাইল বাজার ঘাট, ইসলামপুর উপ...

মজার ঘটনা

পুলিশের এসআই পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা নিচ্ছেন এসপি সাহেব। শেষ প্রার্থীকে কয়েকটি প্রশ্ন করার পর এসপি জিজ্ঞেস করলেন, ‘বলুন তো গীতাঞ্জলি কে লিখেছে?’ লোকটি উত্তর দেয়ার আগেই এসপির ফোন বেজে উঠল। তিনি ফোন ধরে ‌'স্যার স্যার' বলে সম্বোধন করলেন। তারপর বললেন, 'স্যার আমি এখনই অ্যাকশন নিচ্ছি।' ফোন রেখে তাড়াহুড়ো করে বাইরে বেরিয়ে এসে সামনে পেলেন এক ওসিকে। তাকে বললেন, ‘আমার রুমে একজনকে রেখে এসেছি, ওকে জিজ্ঞেস করবে গীতাঞ্জলি কে লিখেছে এবং উত্তরটা আমাকে জানাবে।’ ওসি বলল, ‘স্যার কোনো চিন্তা করবেন না, আমি এক্ষুনি জেনে নিচ্ছি।’ দুইঘন্টা পর এসপি ফিরে এসে তার রুমের ভেতর থেকে কান্নাকাটি, চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পেলেন। অবাক হয়ে রুমে ঢুকে দেখেন চাকরিপ্রার্থী হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে শুয়ে কাতরাচ্ছে, নাক-মুখ থেকে ঝরছে রক্ত। এসপি বিস্মিত হয়ে ওসিকে বললেন, ‘আমি তোমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর জানতে বলেছি, আর তুমি এর কী হাল করেছো!’ ওসি উত্তর দিল, ‘স্যার, এই ব্যাটা তো মহা বদমায়েশ। আমি বললাম গীতাঞ্জলি কে লিখেছে সত্যি করে বল। সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামে একজনের নাম বলে। আমি তাকে সতর্ক...